চিটাগাং

উদ্বোধনের আগেই আশুগঞ্জ-ভৈরব ২য় রেলসেতুর পিলারে ফাটল !

উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ-ভৈরব মেঘনা নদীর উপর নির্মিত ভৈরব দ্বিতীয় রেলসেতুর ৩টি পিলারের বেইজ দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

প্রায় ৬শ’ ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর ৮, ৯ ও ১০ নম্বর পিলারে এই ফাটল দেখা দেয়। মেঘনা নদীতে চলা নৌযানের ধাক্কায় সেতুর এসব পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ভৈরব দ্বিতীয় রেলসেতুর প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শকসহ একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত ৩টি পিলার পরিদর্শন করেছেন।

কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, আশুগঞ্জ-ভৈরব মেঘনা নদীর উপর ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ কাজ শুর হয়। ভারতের ইরকন ও এফকন জেভি নামে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রঙ করা থেকে শুরু স্লিপার, রেললাইন ও পাথর বসানোর কাজসহ সেতুর সকল কাজ গত জুন মাসেই সম্পন্ন করেছে। সেতুর ১২টি পিলারের মধ্যে ৮টি নদীতে পড়েছে। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সেতুটিতে এরই মধ্যে ৮, ৯ ও ১০ নম্বর পিলারে বেইজ সাপোর্টিং ওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, কোন নৌযানের ধাক্কায় এসব পিলারের সাপোর্টিং ওয়ালে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।

খরব পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সেতুর প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হাই, রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী সিরাজ ,প্রকৌশলী আব্দুল হাবিব ভৈরব রেলসেতু প্রকল্পের ভারতীয় পরামর্শক বিভাগের প্রধান নারায়ণ ঝা, সহকারী প্রকৌশলী দ্রুব জ্যোতি ভট্টচার্জ, প্রকৌশলী শ্রী প্রশান্ত ক্ষতিগ্রস্ত পিলার পরিদর্শন করেছেন। তবে তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বুধবার রাতেই সিমেন্ট দিয়ে পিলারের ফাটলটি ভরাট করে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

এব্যাপারে সেতুর ভারতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নারায়ণ ঝা বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার সকালেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। এই সেতুর উপর দিয়ে ১শ’ কিলোমিটার গতিবেগে ট্রেন চলাচল করলেও এর কোন ক্ষতি হবে না। পিলারে যে ফাটল রয়েছে তা আমলে নেয়ার মত নয়। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করায় আমি অবাক হয়েছি।

ভৈরব দ্বিতীয় রেলসেতুর প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হাই বলেন, সেতুর বেইজ পিলারের সাপোর্টিং ওয়ালে ফাটলের কারণে আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। এখানে স্টাকচারাল কোন ত্রুটিও নেই। ট্রেনের যাত্রীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন এতে কোন সমস্যা হবে না। এটি আসলে সব ধরনের নির্মাণ কাজেই কংক্রিটের উপরের সারফেস ক্রেক বা ফাটল দেখা দেয়। এতে কোন সমস্যা হবে না। কারণ মূল পিলারের ধারে কাছেও কোন ক্রেক বা ফাটল নেই। প্রয়োজনে বুয়েটের অধ্যক্ষকে এনে বিষয়টি সরেজমিনে দেখিয়ে যাচাই করা হবে। ভবিষ্যতে যেন কোন বার্জ বা ভলগেট জাহাজ পিলারের সাথে ধাক্কা না লাগে সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিটি পিলারে আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পেলেই উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।

-আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top