ঢাকা ,  রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,  ৯ আশ্বিন ১৪২৪

অর্থনীতি

গোডাউনে ধান মজুদ রেখে চালের সংকট সৃষ্টি

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে চালকল মালিকদের কারসাজি ও সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছে টাস্কফোর্স। গোডাউনে লাখ লাখ টন ধান মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট ও চালের দাম বাড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে ওই সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ মদদ ও কারসাজির তথ্য টাস্কফোর্সের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে। চালের দাম বৃদ্ধির কারসাজিতে জড়িত থাকার দায়ে গত সোমবার টাস্কফোর্সের অভিযানে রশিদ এগ্রো ফুড ও অটো রাইচ মিলের মালিক এবং কেন্দ্রীয় চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদের প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জানা যায়, খাজানগর চালের মোকামে লাফিয়ে লাফিয়ে চালের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণ অনুসন্ধানে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন গঠিত টাস্কফোর্সের অভিযানে গত সোমবার কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামের ৭০ জন চালকল মালিকের গোডাউনে মজুদ ৪/৫ মাস আগের কেনা ১০ লাখ টন ধানের সন্ধান মেলে। গোডাউনে লাখ লাখ টন ধান মজুদ রেখে ধানের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে অসাধু চালকল মালিকরা চালের দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে দেয়। গত এক মাসে দু দফায় চালের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ৫ থেকে ৬ টাকা। কারসাজির মাধ্যমে বাজারে ধান সংকট ও ধানের দামের ঊর্ধ্বগতির অজুহাতে মোকামে চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে খুচরা চালের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

তবে জেলা প্রশাসন অবশেষে নড়েচড়ে বসায় চালকল মালিকদের কারসাজি ও সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদের ১৩টি গোডাউনের মধ্যে একটিতেই ৪/৫ মাস আগে কেনা দুই লাখ টন ধানের সন্ধান মিলে। এছাড়া টাস্কফোর্সের অনুসন্ধানে রশিদের অন্যান্য গোডাউনেও মজুদকৃত ব্যাপক ধানের সন্ধান মিলেছে। খাজানগর ছাড়াও দেশের উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি গোডাউনে সিন্ডিকেটের হোতা আব্দুর রশিদ আরো লাখ লাখ টন ধান মজুদ রেখেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য রয়েছে।

অভিযানকালে টাস্কফোর্সের প্রধান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম মোকামে চাল বিক্রির রেজিস্ট্রার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। ধানের সংকট সৃষ্টি ও কারসাজির মাধ্যমে চালের দাম বাড়িয়ে চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ একাই প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিয়েছে বলে টাস্কফোর্সের সদস্যরা অভিমত প্রকাশ করেন।

খাজানগর মোকাম থেকেই চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এছাড়া অসাধু কিছু মিল মালিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে রশিদ অটো রাইচ মিলের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদের বক্তব্য জানতে মোবাইলে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান জানান, সিন্ডিকেটের কারসাজি রোধ ও চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

-কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

Views All Time
Views All Time
12
Views Today
Views Today
1
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top