ইউরোপ

ট্রাম্প-এলিজাবেথ-ট্রুডোর ‘কেলেঙ্কারি’ ফাঁস

বিশ্বে বহুল আলোচিত পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির পর এবার আরেকটি আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস হয়েছে। গোপন নথি ফাঁস হওয়া এই কেলেঙ্কারির নাম দেওয়া হয়েছে প্যারাডাইজ পেপারস; যেখানে কর ফাঁকি ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগে নাম উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র্যাম্প, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জ্যাস্টিন ট্রুডো ও দ্বিতীয় রানি এলিজাবেথেরও।

বিবিসির অনুষ্ঠান প্যানোরামা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম (আইসিআইজে), এবং জার্মান সংবাদপত্র দৈনিক জিটডয়েচ সাইতং-এর করা এক তদন্তের অংশ হিসেবে এক কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি দলিল পত্র পাওয়া গেছে। ৬৭টি দেশের ৩৮০ জন সাংবাদিক ১ কোটি ৩৪ লাখ ডকুমেন্টস এখন তদন্ত করে দেখছে।

অধিকাংশ তথ্যই বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের। তার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনে বাণিজ্যসচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উইলবার রস। জনশ্রুতি আছে নব্বইয়ের দশকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন বলেই রসের এমন অবস্থান প্রাপ্তি।

তাছাড়া প্যারাডাইস পেপার্স নামের এই দলিলগুলো থেকে উদঘাটিত হয়েছে যে, রসের ‘নেভিগেটর হোল্ডিংস’ নামে একটি শিপিং কোম্পানিতে মালিকানায় অংশীদারিত্ব রয়েছে- যা রুশ জ্বালানি কোম্পানি সিবুর-এর জন্য তেল ও গ্যাস পরিবহন করে লক্ষ লক্ষ ডলার আয় করে থাকে। সিবুর-এর মালিকের মধ্যে দু’জন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছেন, এবং তারা প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলছেন, রস যদিও অন্যায় কিছু করেন নি, কিন্তু এই তথ্য প্রকাশ পাওয়াটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ব্যক্তিগত অর্থের প্রায় এক কোটি পাউন্ড অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ হয়েছে। ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব অর্থ কেমান আইল্যান্ডস ও বারমুডায় গেছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি রানির ব্যক্তিগত সম্পদ ৫০ কোটি পাউন্ডের বিনিয়োগ দেখভাল করে এবং তাকে মুনাফা তুলে দেয়।

বিবিসি বলছে, এই বিনিয়োগে অবৈধ কিছু নেই এবং রানি কর দিচ্ছেন না বলেও এটা ইঙ্গিত করে না। তবে রাজপরিবার অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

গ্রাহক ‘ঠকানোয়’ সমালোচিত ব্রিটিশ কোম্পানি ব্রাইট হাউজেও রানির বিনিয়োগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যজুড়ে কিস্তিতে ইলেকট্রনিক, গৃহস্থালি পণ্য ও আসবাব সরবরাহ করে ব্রাইট হাউজ। কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ গ্রাহকদের সঙ্গে তাদের অসদাচরণ সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। বিপুল অংকের কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনে আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন স্টেফান ব্রনফম্যান। মাত্র দুই ঘণ্টায় ট্রুডোকে আড়াই লাখ ডলার তহবিল এনে দিয়েছিলেন ব্রনফম্যান। কিন্তু গোপন নথিতে দেখা যাচ্ছে, ব্রনফম্যান ও তাঁর প্রতিষ্ঠান কেম্যান আইল্যান্ডে প্রায় ৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন। অথচ ট্রুডো বারবারই ‘অফশোর’ (কর থেকে বাঁচার জন্য বিদেশে বিনিয়োগ) বিনিয়োগের বিপক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ট্রুডোর জন্য এটা বিরাট বড় এক ধাক্কা।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top
Left Menu Icon
Right Menu Icon