ঢাকা ,  রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,  ৯ আশ্বিন ১৪২৪

অর্থনীতি

তৈরি পোশাক কারখানা সংস্কারে কঠোর হচ্ছে সরকার

প্রায় দেড় হাজার তৈরি পোশাক কারখানার সংস্কার কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) ইতিমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলের কারখানা মালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় একশ’ গার্মেন্টস মালিক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে আগামী এপ্রিলের মধ্যে কারখানা সংস্কার সম্পন্ন করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় এসব কারখানার কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতার অনুমতি (ইউপি) আটকে দেওয়া হবে। ফলে আটকে যেতে পারে রপ্তানি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সঙ্গেও আলোচনা শুরু করেছে। এছাড়া আজ বুধবার ঢাকা অঞ্চলের বেশকিছু কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হবে।

ডিআইএফই’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের বাইরে সরকারি উদ্যোগে দেড় হাজারের বেশি কারখানার সংস্কারে কার্যত কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। কিন্তু আগামী বছরের মধ্যে এ কার্যক্রম আমাদের সম্পন্ন করতে হবে। এসব কারখানায় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সেটি দেশের অন্যান্য ভালো কারখানার উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি হতে পারে না। এ জন্য এসব কারখানা সংস্কারে এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। সঠিক সময়ে সংস্কার না হলে ডিআইএফই আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখভালের লক্ষ্যে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে দুটি জোট গঠিত হয়। এ দুটি জোটের সদস্যদের পোশাক সরবরাহকারী কারখানাগুলোর সংস্কার কার্যক্রমই কেবল তারা দেখভাল করছে। এমন কারখানার সংখ্যা প্রায় ২২শ’। এর বাইরে রপ্তানির সঙ্গে জড়িত আরো দেড় হাজার কারখানার সংস্কার তদারকির উদ্যোগ নেয় সরকার। এতে এগিয়ে আসে আইএলও (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা)। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আর্থিক খরচ সংকুলান করতে একাধিক দেশ থেকে কিছু অর্থ সংগ্রহ করে দেয় সংস্থাটি। কিন্তু সংস্কারে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ হওয়ায় অনেক কারখানা মালিকই সংস্কারে পিছিয়ে যান। এসব কারখানার উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগই অপেক্ষাকৃত ছোট পুঁজির। অন্যদিকে তাদের বড় একটি অংশ আবার শেয়ারড কিংবা ভাড়া ভবনে। ফলে কাঠামোগত কিংবা অগ্নি ও বৈদ্যুতিক সংস্কারে রাজি হচ্ছিলেন না ভবনের মালিক। অর্থায়নও বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। এসব কারণে গতি আসেনি সরকারি উদ্যোগে কারখানা সংস্কারের কার্যক্রমে।

ইতোমধ্যে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সভুক্ত কারখানায় গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ ত্রুটির সংস্কার সম্পন্ন হলেও সরকারি উদ্যোগের দেড় হাজার কারখানার কোন কোনটিতে সংস্কার শুরুই হয় নি বলে জানা গেছে। ফলে অস্বস্তি শুরু হয়েছে ইস্যুটি নিয়ে। এদিকে বড় অঙ্কের বাড়তি ব্যয় ও কারখানা ভবনে মালিকানা জটিলতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের মালিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংস্কারে আগ্রহ কম বলে জানা গেছে। চট্টগ্রামে অবস্থিত বিজিএমইএ কার্যালয়ে ডিআইএফইএর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ অঞ্চলের ৯৮ পোশাক কারখানার মালিক নিজেরাই এ কথা তুলে ধরেছেন। তবে আগামী এপ্রিলের মধ্যে যে কোন মূল্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তাদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ডিআইএফই’র পক্ষ থেকে।

-নিউজ ডেস্ক

Views All Time
Views All Time
45
Views Today
Views Today
1
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top