ঢাকা ,  শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,  ৭ আশ্বিন ১৪২৪

বিদেশ

ধর্ষক রাম রহিমের পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে পুলিশ

ভারতের ধর্ষক ধর্মগুরু রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার দিন তার সমর্থকরা তাকে মুক্ত করতে এই চেষ্টা চালায় বলে বুধবার হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে। দুই শিষ্যকে ধর্ষণের দায়ে ডেরা সাচ্চা সওদা আশ্রমের ৫০ বছর বয়সী প্রধান গুরমিত রাম রহিমকে সোমবার ২০ বছরের সাজার রায় দেন বিচারক।

গত শুক্রবার পাচকুলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর গুরমিত রাম রহিম আদালতের কাছে তার ‘লাল ব্যাগ’টি চান, সিরসায় ডেরা সাচ্চা সওদার মূল আশ্রম থেকে যেটি তিনি নিয়ে এসেছিলেন।

পুলিশ বলছে, ওই লাল ব্যাগ চাওয়াটা আদতে সমর্থকদের উসকে দেওয়ার সংকেত।

“ডেরাপ্রধান ওই ব্যাগটি চেয়ে বলেন সেখানে তার পোশাক আছে। আসলে এটা ছিল একটা সংকেত যার মাধ্যমে সমর্থকদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর এবং একইসঙ্গে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে উসকানি দেন তিনি,” বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেন হরিয়ান পুলিশের মহাপরিদর্শক কে কে রাও।

ধর্মগুরুর এসইউভি থেকে যখন ব্যাগটি বের করা হয়, তখন আদালতের ২-৩ কিলোমিটার দূরে কাঁদানে গ্যাসের শেলের শব্দ শোনা যায় বলে জানান এই কর্মকর্তা।

“তখনই আমরা বুঝতে পারি এটা একটা সংকেতের যার কোনো একটা মানে আছে। ”

রাম রহিম এবং তার ‘দত্তক কন্যা’ হানিপ্রিত ইনসান যখন আদালত চত্বরেও অহেতুক সময় নষ্ট করছিলেন তখন পুলিশের সন্দেহ বেড়ে যায় বলেও জানান রাও। সবসময়ের সঙ্গী হানিপ্রীত ডেরাপ্রধানের সঙ্গে আদালত থেকে রোহতাক জেল পর্যন্ত যান।

“গাড়িতে ওঠার আগেও তারা সময় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন যেন সমর্থকরা এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে যে তিনি আদালত থেকে বের হচ্ছেন।

তাদেরকে বারবার বলা হচ্ছিল এখানে দাঁড়ানো যাবে না।
“২-৩ কিলোমিটার দূরেই ছিল উন্মত্ত জনতা, তারা কাছেও চলে আসতে পারতো। আমরা কখনোই সহিংসতা চাইনি, হতাহতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারতো,” বলেন তিনি।

তাৎক্ষণিকভাবে রাম রহিমকে তার এসইউভির পরিবর্তে পুলিশ কর্মকর্তা সুমিত কুমারের গাড়িতে তোলা হয়। গাড়ি চলতে শুরু করলে স্বঘোষিত ধর্মগুরুর নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে।

“ওই পরিস্থিতি আমরা ভালোই সামলেছি, কেননা কোনো গুলি ছোড়া লাগে নি,” বলেন রাও।

সিরসার ডেরা থেকে পাচকুলার আদালতে আসার পথে রাম রহিমের সঙ্গে থাকা ৮০ টি প্রাইভেট কার ও এসইউভি পাশের একটি থিয়েটারের কাছে পার্ক করে রাখা হয়েছিল।

সেখানে থাকা সমর্থকদের কাছে অস্ত্র থাকতে পারে এবং তারা পুলিশ এসকর্টকে আক্রমণ করতে পারে এই চিন্তায় তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রাপথ ও পরিকল্পনা বদলে সেনানিবাস এলাকার ভেতর দিয়ে রাম রহিমকে নিয়ে যাওয়া হয়।

“হেলিকপ্টার যেখানে আছে সেখানে রাম রহিমকে নিয়ে যাওয়াই অগ্রাধিকার ছিল, আমরা সে পথ দিয়ে যেতে চাইনি যেখানে ৭০টির মতো গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল।

“আমরা যখন সেনানিবাসের পথ ধরি তখন ডেরাপ্রধানের ব্যক্তিগত কমান্ডোরা পুলিশের গাড়িগুলোকে জোরপূর্বক আটকানোর চেষ্টা করে; ওই কমান্ডোদের সরিয়ে পরে হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়,” বলেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

রাম রহিমকে বিশেষ হেলিকপ্টার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পুরোটা সময়জুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল; পুলিশ এসময় তার সমর্থকদের সঙ্গে ইঁদুর-বিড়াল খেলায় জড়িয়েছিল বলে জানান রাও।

-বিদেশ ডেস্ক

Views All Time
Views All Time
24
Views Today
Views Today
2
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top