মতামত

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ

শেষ পর্যন্ত মানবতার জয় হলো। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বদর নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায় গত ৩ সেপ্টেম্বও রাত ১০ টা ৩৫ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর করা হয়েছে। এ নিয়ে ছয়জন মানবতাবিরোধী অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হলো। তাদের পাঁচজন জামায়াতে ইসলামীর এবং একজন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা।
২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদন্ডাদেশ বিবেচনার (রিভিউ) যে আবেদন করেছিলো গত ৩০ আগস্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেয়। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগটি না নেয়ায় মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরে আইনী বাধা থাকে না। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ৩ সেপ্টেম্বর তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মীর কাসেম জামায়াতে ইসলামীর সে সময়ের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংগের চিটাগাং শহর শাখার সভাপতি এবং ঘাতক প্রধান ছিল। চিটাগাং অঞ্চলের কিল্লার ডালিম হোটেলে আল বদও বাহিনীর ক্যাম্প ও নির্যাতনকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার মূল নেতা এবং নির্দেশক ছিল মীর কাসেম। চিটাগাং-এর কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে হত্যার অভিযোগে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় ট্রাব্যুনাল তাকে ফাঁসির দন্ড দিয়েছেন এবং সর্বোচ্চ আদালত তা বহাল রেখেছেন।
মুক্তিযুদ্ধেও সময় নৃশংতার জন্য বাঙ্গালী খান নামে কুখ্যাত মীর কাসেম পরবর্তীতে অঢেল ধনসম্পদের মালিক হয়েছিল। সে ছিলো জামায়াতের প্রধান অর্থদাতা। বিদেশে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে সে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্তে লিপ্ত ছিলো। এসব কারণেও তার মামলার চূড়ান্ত পরিনতি নিয়ে অনেবোর মাসেই বিশেষ ঔৎসুস ছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মীর কাসেম আলীর ফাঁসির দন্ড কার্যকর হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন অবশিষ্ট মামলাগুলোও সুষ্ট পরিণতির দিকে এগুবে বলে আমরা আশাবাদী।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top
Left Menu Icon
Right Menu Icon