দেশ

বরিশালের মোকামে এত ইলিশ!

ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রথম দিনই মৌসুমের রেকর্ড পরিমাণ ইলিশের আমদানি হয়েছে বরিশাল নগরীর পোর্টরোড মোকামে। সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫ হাজার মণের বেশি ইলিশের আমদানি হয়েছে এই মোকামে । টানা ২২ দিন বন্ধ থাকার পর প্রত্যাশার চেয়ে কয়েকগুন বেশি ইলিশের আমদানিতে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক ও ইলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ ইলিশের আমদানি হওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে। তবে জেলে ও মৎস্য অধিদফতরের দাবি, রোববার রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর এসব ইলিশ ধরা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইলিশ ব্যবসায়ী জানান, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিকার করা ইলিশ বিভিন্ন কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। যা আজ সোমবার বিক্রির জন্য মোকামে আনা হয়েছে।

এদিকে রোববার দিবাগত রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে বরিশাল মোকামে ইলিশের অপ্রত্যাশিত আমদানিতে খুশি মৎস্য অধিদফতরসহ ইলিশ ব্যবসায়ীরা। তারা দাবি করেন, বিগত বছরের চেয়ে এ বছর অনেক বেশি ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে নদীতে এসেছে। জেলেরা স্বতস্ফূর্তভাবে নিষেধাজ্ঞা মান্য করেছে। মোকামে আমদানি হওয়া ইলিশ স্থানীয় নদ-নদীতে রোববার রাত থেকে ধরা হয়েছে বলে জেলে, ইলিশ ব্যবসায়ী ও মৎস্য কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।

এদিকে সকাল থেকে ইলিশে সয়লাব ছিল পোর্টরোড মোকাম। সোমবার সকালে ও বিকেলে নগরীর পোর্টরোড মোকামে গিয়ে দেখা গেছে, টানা ২২ দিন বন্ধ থাকার পর প্রত্যাশার চেয়ে কয়েকগুন বেশি ইলিশের আমদানিতে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক ও ইলিশ ব্যবসায়ীরা। দাম কম হওয়ায় খুচরা ক্রেতারাও হুমরি খেয়ে পড়েছেন পোর্টরোড মোকামে। আমদানি হওয়া ইলিশের মধ্যে ডিমওয়ালা এবং সদ্য ডিম ত্যাগ করা দু’টিই রয়েছে। এর মধ্যে গত ৫/৭দিন আগে মজুদ করা ইলিশও রয়েছে বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন।

বরিশাল মৎস্য অধিদফতরের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল মোকামে ৪ হাজার মণের বেশি ইলিশের আমদানি হয়েছে। এখনও নৌকায় মোকামে আরও ইলিশ আসছে। রাত নাগাদ ইলিশ আমদানির পরিমাণ ৫ হাজার মণ ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে একদিনে এত ইলিশের আমদানি বরিশালের মোকামে এর আগে হয়নি।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য অধিদফতরের পরিচালক ড. এ কে এম আমিনুল হক জানান, ডিম ছাড়ার পর মা ইলিশ দুর্বল হয়ে পড়ায় সহজেই জেলেদের জালে ধরা পড়ে। যে কারণে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর পর জেলেরা অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ইলিশ পেয়েছেন।

নগরীর পোর্টরোড মোকামের ইলিশের আড়তদার আবুল কালাম আজাদ জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মণ ইলিশের আমদানি হয়েছে বরিশাল নগরীর পোর্টরোড মোকামে। এসব ইলিশ এসেছে বরিশাল ও আশপাশের নদ-নদী থেকে। কয়েক দিনের বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে নদীর উপর দিকে উঠে আসায় রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে।

নগরীর পোর্টরোড মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিৎ কুমার দাস মনু জানান, দুই-চার-দশ-বিশ বছরের মধ্যে এমন মাছের দেখা মেলেনি। সামনে আরও তিন চার দিন এমন ইলিশ আসবে।

দামের বিষয়ে তিনি বলেন, এলসি সাইজের (৭০০-৮০০ গ্রাম) ইলিশ প্রতি মণ ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়েছে ৬০০ টাকা। ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়েছে ৪৫০ টাকা।

অজিৎ কুমার দাস মনু আরও জানান, এখন কেবল নদীর মাছ আসছে। আর চার-পাঁচদিন পরেই সাগরের মাছ আসবে। তখন দাম আরও কমবে।

অন্যদিকে বরিশালের বিপরীত চিত্র ছিল দক্ষিণের অপর দু’টি প্রধান ইলিশ মোকাম বরগুনার পাথরঘাটা ও পটুয়াখালীর আলিপুর-মহিপুরে। ওই দু’টি মোকাম ছিল প্রায় ইলিশ শূন্য। তবে রোববার মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ইলিশ ধরার জন্য দুটি মোকাম থেকে শত শত ট্রলার সাগরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে পাথরঘাটা ও আলিপুর-মহিপুর মোকামেও বিপুল পরিমাণ ইলিশের আমদানি হবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

-বরিশাল প্রতিনিধি

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top
Left Menu Icon
Right Menu Icon