ডাকবাক্স

বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিত্র

সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতিতে একটি উদ্দীপক থাকে এবং উদ্দীপকের চিত্রের সঙ্গে মিল করে মূল বোর্ড বইয়ের গল্পের বা কবিতার আলোকে উত্তর দিতে হয়। সেখানে ৪টি প্রশ্ন থাকে। ‘ক’ নং প্রশ্ন এক কথায় উত্তর দিতে হয়। যেটাকে সাধারণ জ্ঞান বলে। এটার উদ্দীপকের সঙ্গে কোন মিল নেই বা থাকে না। ক নং প্রশ্ন নির্ভর করে সম্পূর্ণ প্রশ্নকারীর ওপর। ‘খ’ নং প্রশ্নটি সাধারণ জ্ঞান এবং উদ্দীপক মিলেই হয়। গ নং অনুধাবন। এটি উদ্দীপক এবং মূল গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য বর্ণনা করে আলোচনা করা হয়। ‘ঘ’ নং প্রশ্ন উচ্চতর দক্ষতা। এখানে উদ্দীপক এবং মূল গল্পের আলোচনার পাশাপাশি নিজস্ব একটা চিন্তা বা মতামত উপস্থাপন করতে হয়। এখন দেখা যাক, বর্তমান সময়ের ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয় এবং কতটুকু লেখাপড়া করে। প্রথমত, ক নং প্রশ্নের উত্তর ৮০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী পারে না। যে ২০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী এই প্রশ্নের উত্তর পারে তারা একে অপরের সহযোগিতা করে আরও ২০ শতাংশ ছাত্রছাত্রীকে সঠিক উত্তর করায়। দ্বিতীয়ত, খ নং প্রশ্ন কিছু ভালো ছাত্রছাত্রী ছাড়া অধিকাংশই ভুল লেখে বা ছেড়ে দেয়। তৃতীয়ত, গ এবং ঘ নং প্রশ্নের উত্তর যে ২০ শতাংশের কথা আমি আগেই বলেছি তারাই মোটামুটি ভালো করে লেখে। বাকিদের উত্তর পড়লে মনে হবে, ভিনগ্রহের কোন গল্পের লেখক মনের মাধুরি মিশিয়ে নিজের ভাবনা এবং চিন্তাগুলোর এক জায়গায় সন্নিবেশ ঘটিয়েছে। তাতে না থাকে কোন সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যের তুলনা আর না থাকে বিষয় সংশ্লিষ্ট কোন মতামত। অনেকে গান, জাতীয় সঙ্গীত লিখেও নম্বর পায়। অনেকে শুধুই উদ্দীপক তুলে রাখে। আর আমাদের ব্যস্ত শিক্ষকরা ক, খ, গ, ঘ ৪টি উত্তর দেখলেই ব্যস আর কোন কথা নেই ১০-এর মধ্যে ৭-৮ নম্বর। এতে কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। এভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুখে আমরা বিষ তুলে দিচ্ছি। কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নের নম্বর পাওয়ার জন্য প্রচুর লিখতে হতো এবং তার জন্য প্রচুর পড়াশোনাও করতে হত। আর এখন এক পৃষ্ঠা বা দেড় পৃষ্ঠার মধ্যে অনেকে একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়। এইভাবে খাতা দেখে এবং সৃজনশীলতার অপকারিতা ইতিমধ্যে আমরা পেতে শুরু করেছি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে। বলা হয়ে থাকে, সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষকের শেখানোর কিছুই নেই। ছাত্রছাত্রীরা নিজেরাই শিখবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি এর উল্টো চিত্র। ফলে ভর্তি পরীক্ষায়, চাকরি পরীক্ষায় গিয়ে স্টুডেন্টরা মার খাচ্ছে। ফলে তারা ভর্তি কোচিংয়ের দ্বারস্থ হয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। ওই সময়ে সৃজনশীলতা তাদের কোন কাজেই আসছে না। আগে যা শিখেছিল মনে হচ্ছে সবই ভুল ছিল। এছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারের অবহেলা, উপেক্ষাও অনেকাংশে দায়ী। ফলে সময় এসেছে সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে আরও একবার ভেবে দেখবার।

মো. জাকির হোসেন, চুয়াডাঙ্গা

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top
Left Menu Icon
Right Menu Icon