অপরাধ

বাসে গণধর্ষণের পর হত্যা: রুপার লাশ তুলে পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যা করা তাড়াশের রুপা খাতুনের (২৭) লাশ কবর থেকে তুলে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।বৃহস্পতিবার ( ৩১ আগস্ট) টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়া এই আদেশ দেন। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে লাশ তুলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে বলেন।

এই ঘটনায় আটক ৫ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে টাঙ্গাইলে। সর্বস্তরের মানুষ আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রূপা খাতুন। দুই ভাই, তিন বোনের মধ্যে ছিলেন তৃতীয়। তাকে হারিযে বাকরুদ্ধ স্বজনরা। এ ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশ্য ফাঁসি চান তারা।

রূপা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ। পরবর্তীতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে এমন নজির দেখতে চান সকলে।

রুপা হত্যা মামলার আইনজীবী আতাউর রহমান আজাদ লাশ তুলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে দুপুর ১টার দিকে টাঙ্গাইল জেলা ম্যাজিস্টেট ও জেলা প্রশাসক খাঁন মো. নুরুল আমিন কবর থেকে রুপার লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। দুপুর ২টার দিকে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্টেট ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক কায়ুম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে রুপার লাশ উত্তোলন করা হবে।

এদিকে মুঠোফোনে রুপার ভাই হাফিজুর রহমান জানান, লাশ উত্তোলনের পর তাড়াশে রুপার জন্মস্থান আসানবাড়ী গ্রামে আনা হবে। পরে বাবার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।

টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুব আলম বলেছেন, এ ধরণের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যা যা করণীয় তার সব করা হবে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রুপা বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার লক্ষ্যে ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে সন্ধ্যা সাতটার দিকে রওনা হন। তিনি বগুড়া গিয়েছিলেন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে। ওইদিন তাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মধুপুরের বনে ফেলে যায়। শনিবার বেওয়ারিশ হিসেবে মধুপুরে লাশ দাফন করা হয়। গত সোমবার তার পরিচয় মেলে। রূপা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামের মৃত জিলহাস প্রামাণিকের মেয়ে। রূপা ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রমোশনাল বিভাগে শেরপুরে চাকরির পাশাপাশি ঢাকা আইডিয়াল ল কলেজে পড়তেন। গ্রেফতারকৃত ছোঁয়া পরিবহনের ৫ শ্রমিকের মধ্যে তিনজন রুপাকে ধর্ষণ করে। চালক ও সুপারভাইজার ধর্ষণ না করলেও লাশ গুমের বিষয়ে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিন ধর্ষক মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ধর্ষকদের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, চলন্তবাসে কলেজছাত্রী রুপা প্রামাণিককে তিন ধর্ষক পালাক্রমে ধর্ষণের পর তিনি অনেক্ষণ চুপচাপ ছিলেন। বাসটি টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায় এলেই রুপা বাস থেকে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বাধা দেয় ধর্ষকরা। তাদের ধারণা ছিল রুপা যদি বাস থেকে নেমে যায় তাহলে তাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। মানুষ জেনে গেলে আর রক্ষা থাকবে না। রুপাকে যখন বাস থেকে নামতে বাধা দেয়া হচ্ছিল তখন রুপা চিৎকার করতে থাকেন। কেউ যাতে চিৎকার শুনতে না পায়, ধর্ষকরা প্রথমে রুপার গলা চেপে ধরে। কিন্তু কিছুতেই যখন রুপার চিৎকার বন্ধ করা যাচ্ছিল না তখন ঘাড় মটকে তাকে হত্যা করে।

রুপা চিৎকার না করে কৌশলে বা আপস করে ধর্ষকদের হাত থেকে বাঁচতে চাননি। প্রতিবাদ করে ধর্ষণ ঠেকাতে না পারলেও বাঁচার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়েছেন তিনি। কিন্তু তিন নরপশুর সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। নির্মমভাবে মরতে হলো পাষণ্ডদের হাতে।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, ধর্ষকরা বুঝতে পেরেছিল রুপার চিৎকার থামাতে না পারলে রাস্তার আশপাশের কেউ শুনে যাবে এবং তাতে তারা ধরা পড়বে।

-নিজস্ব প্রতিবেদক

Views All Time
Views All Time
34
Views Today
Views Today
1
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top