অর্থনীতি

বিদ্যুৎ বিভাগের দুই প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ

একনেক অনুমোদিত মূল পিপি (প্রকল্প প্রস্তাবনা) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের দুটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানি (ডেসকো) বাস্তবায়িত ওই প্রকল্প দুটির মূল প্রাক্কলিত ছিল ৬৮৮ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৮০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

প্রকল্পের এ অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধিতে আপত্তি জানিয়েছে অডিট অধিদপ্তর। প্রকল্প দুটিতে ৩৯২ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয় বলে অধিদপ্তরের আপত্তিতে বলা হয়েছে। অডিট আপত্তিতে বলা হয়েছে, ডেসকোর ডিজিএম (পিএন্ডডি) প্রকল্প দুটির পরিচালক ছিলেন। একই ব্যক্তির একসঙ্গে এতগুলো দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে সার্বিক উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রকল্প সংশোধনের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গত ৬ জুলাই জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি সূত্র জানায়, মূল পিপিতে ‘আপগ্রেডিং অ্যান্ড এক্সপেন্ডিং সিস্টেম ইন গুলশান সার্কেল’ শীর্ষক প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩৯৯ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১০ সালের জুন মাসে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়, আর ব্যয় ধরা হয় ৫৯৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, স্ট্রেনদেনিং ডেসকোস ইলেকট্রিক ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক’ শীর্ষক প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ হাজার টাকা। ২০০৫ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০০৯ সালের জুন মাসে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আর ব্যয় ধরা হয় ৪৮৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এডিবি’র অর্থায়নে বাস্তবায়িত ওই দুটি প্রকল্পে মোট ব্যয় বাড়ে ৩৯২ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে অডিট অধিদপ্তর থেকে ব্যাখ্য চাইলে বাস্তবায়কারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প দুটি কাজ শুরু হলেও এডিবি থেকে প্রকল্প সাহায্য পেতে বিলম্ব হয়। এ কারণে প্রকল্পের সময় বাড়াতে হয়। আর সময় বৃদ্ধির ফলে বাজারে পণ্যমূল্য ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পায়। এতে ভ্যাটের পরিমাণও বেড়ে যায়। ফলে প্রকল্প দুটিতে ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু এ ব্যাখ্যা মানতে রাজি নয় অডিট অধিদপ্তর। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগের অভাব ছিল বলে দাবি করেছে। প্রতিটি প্রকল্পে আলাদা প্রকল্প পরিচালক থাকা বাঞ্চনীয় বলে উল্লেখ করেছে। এ বিষয়ে সিএজি কার্যালয়ও একমত প্রকাশ করেছে। সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকেও একই সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্য উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ জানান, কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের বিদ্যুতের ব্যবস্থাপনা লোকসান কমানোর লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত ত্রুটি কমাতে গৃহীত প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ওই দুটি প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। কমিটির বৈঠকে অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি এ ধরনের আপত্তি যাতে উত্থাপিত না হয়- সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

-অর্থনীতি ডেস্ক

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top
Left Menu Icon
Right Menu Icon