বিদেশ

মিয়ানমারকে ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার সুপারিশ

চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে রাখাইন কমিশন। সেখানে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক নিশ্চিত না করলে মিয়ানমারের এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারের উচিত যৌথভাবে যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া, রাখাইনে ফেরত নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার সুপারিশ করে কমিশন বলেছে, যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে, প্রয়োজনে মিয়ানমার সরকার তাদের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেবে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ বাণিজ্য কমিশনকে আরো সক্রিয় করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য জোরদার করার সুপারিশ করেছে আনান কমিশন। সুপারিশে কমিশন বলেছে, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়াতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকার দুই দেশের মধ্যে সুধী সমাজের সফর বিনিময়, থিংক ট্যাংক, শিক্ষাবিদ ও বেসরকারি খাতের সফর বিনিময় করতে পারে।

আনান কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, চ্যালেঞ্জ এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধাদি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে এ ধরনের কমিশন গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে একে স্বাগত জানিয়েছে কমিশন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই যৌথ কমিশন অন্ততপক্ষে প্রতি তিন মাস অন্তর একবার করে বৈঠক করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, অবৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, রোহিঙ্গাদের দলিলাদি তৈরি করা, মানবপাচার ও মাদকপাচার প্রতিরোধে যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়া এবং সহিংসতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থাকতে হবে। কারণ এক দেশের কোনো ঘটনা অন্য দেশকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। ২০১৬ সালে রাখাইনে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক মুসলিম রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সীমান্তের দুই পাড়েই মানবিক সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও পারস্পরিক সহায়তার সুযোগ উভয় দেশের জন্যই স্বার্থ বয়ে আনবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ রোহিঙ্গাদের উপর আক্রমণ করে। তখন প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটেই আনান কমিশন গঠিত হয়। কমিশন একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দেয় গত মার্চে। এরপর গত ২৪ আগস্ট সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমার সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

-বিদেশ ডেস্ক

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top