ঢাকা ,  শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,  ৭ আশ্বিন ১৪২৪

উপ সম্পাদকীয়

মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খার বাংলাদেশ : প্রেক্ষিত রামু, নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জ (৫)

মুক্তিযুদ্ধ ও সাঁওতালদের অস্তিত্বের সংগ্রাম

 

_mg_7690

কথা ছিল আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমির স্বাধীন মাটিতে সকল নাগরিক সমাজ মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধে বৈষম্যহীন একটি সমাজের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম। অন্তত মানুষে মানুষে জাতিতে জাতিতে এত বৈষম্য ও নিপীড়ন থাকবে না। সাঁওতালসহ শত শত আদিবাসী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের গারো, হাজং, কোচ, বর্মন, সিলেটে চা বাগানের আদিবাসী, মনিপুরী, উত্তরবঙ্গে উঁরাও, সাঁওতাল ও অন্যান্য আদিবাসীরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। বুদু উঁরাও রংপুর ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন তীর ধনুক নিয়ে। অনেক আদিবাসী জীবন দিয়েছেন। তাঁদের নামে নানা জায়গায় স্মৃতিসৌধ আছে।ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের সঙ্গে হাজার হাজার আদিবাসী মুক্তিযুদ্ধে দেশান্তরিত হয়েছেন। তাদের বাড়িঘর, সহায়-সম্পদ সব ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বপ্ন ছিল পাকিস্তানী শাসনামলে যে শোষণ ও বঞ্চনার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে আদিবাসীদের, মুক্তিযুদ্ধ শেষে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সবাই মানুষের মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু আজ স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও আদিবাসী জীবনে যন্ত্রণা ও হাহাকার তো দূর হয়নি। বরং প্রতি পদে পদে তাদের উপর অত্যাচার ও নির্যাতন চলছে। সারা দেশে আদিবাসীরা তাদের ভূমির অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। কোথাও কোথাও আদিবাসীদের উপর প্রকাশ্যে আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এসবের কোনো বিচার হচ্ছে না।

স্বাধীনতার ৪৫ বছরে আদিবাসীদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার, মানবাধিকারের আজ কী অবস্থা? ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জীবন আজ কেমন? নাগরিক হিসেবে তাদের মর্যাদা ও সম্মান কোন্ স্তরে? কবি শামসুর রাহমান তাঁর ‘কথা ছিল’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘কথা ছিল, আমার আনন্দ-গানে ভরিয়ে তুলবো অলিগলি, জনপথ, অবাধ প্রান্তর/আমার ভরাট গলা ছোঁবে দিগন্তকে/ কথা ছিল, পায়রা উড়িয়ে দেবো ভোর বেলা মেঘের কিনারে/কথা ছিল উৎসবের কবিতা নিরুদ্বেগ লিখে মুছে ফেলবো সকল দুঃখ শোক/…কথা ছিল প্রত্যেককে দেখাবো অনিন্দ্য সূর্যোদয় মুক্ত মনে/…অথচ এখন, এ মুহুর্তে সূর্যাস্তের ছোপলাগা কবরের দিকে অসহায় চেয়ে থাকি/…বন্দীদশা এল বুঝি পুনরায়।’

আদিবাসী পরিচয়ের অস্বীকৃতি, অপপ্রচার ও অপমান হতে দেখে আজ দুঃখের সঙ্গে মনে হয় আদিবাসী জীবনে ঘোর বন্দী দশা এসে গেছে।

গত ৬ ও ৭ নভেম্বর গাইবান্ধা জেলার সাহেবগঞ্জ ও বাগদাফার্ম এলাকায় পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও সন্ত্রাসী বাহিনী মিলিতভাবে আদিবাসী ও বাঙালী কৃষকদের উপর আক্রমণ চালায়। পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা আদিবাসীদের বাড়িঘরে আগুণ দেয়। পুলিশের গুলিতে তিন জন আদিবাসী সাঁওতাল নিহত হন। তারা হলেন শ্যামল হেম্ব্রম, মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু ও একজন আদিবাসী নারী যার নাম জানা যায়নি। সন্ত্রাসীদের আক্রমণে ও পুলিশের গুলিতে ২০ জনেরও অধিক আদিবাসী নারীপুরুষ আহত হয়। কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ ও সন্ত্রাসী বাহিনী মিলে আদিবাসীদের উপর গুলি করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, লুটপাট করেছে তাদের হাঁস মুরগী, গরু ছাগলসহ বাড়িঘরে থাকা আসবাবপত্র লুন্ঠন করেছে। জাতীয় পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলগুলোতে সচিত্র খবর প্রচারিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখা গেছে যেখানে পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা আদিবাসীদের ঘরে আগুণ দিচ্ছে আর দাউ দাউ করে জ্বলছে। ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘন করে আদিবাসীদের চরম আতংকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। গ্রাম ছেড়ে আদিবাসী নারী-পুরুষ-শিশু পাশের গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে।ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পরও আদিবাসী মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন যাপন করছে। সেখানে বসবাসকারী আদিবাসী শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, তারা স্কুলে যেতে পারছে না। ইতোমধ্যে শীতের প্রকোপ পরায় তাদের যন্ত্রণার মাত্রা তীব্রতর হয়েছে এবং আদিবাসীরা অনাহারে দিনাতিপাত করছে।

আদিবাসীদের কাছে ভূমিই জীবন। আমরা বলি, ল্যান্ড ইজ লাইফ। ভূমির অর্থনৈতিক দিক অ-আদিবাসীদের কাছে মূলতঃ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আদিবাসীদের কাছে ভূমি শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, ভূমির সাথে আদিবাসীদের রয়েছে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক, স্পিরিচুয়াল রিলেশনশিপ। তাই ভূমি থেকে উৎখাত হয়ে গেলে আদিবাসী জীবন ও সংস্কৃতি টিকে থাকতে পারে না। পৃথিবীতে অনেক আদিবাসী তাদের ভূমি ও টেরিটরি হারানোর ফলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

অনেকে নিশ্চয় জেমস ক্যামেরনের বিখ্যাত অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র এ্যাভাটার দেখেছেন। ফিল্মে কয়েকটি ডায়ালগ গভীর অর্থপূর্ণ। এই ছবিতে ওমাতিকায়া জনগণ হলো আদিবাসী। ছবির ডায়ালগ আমার মনে গেঁথে আছে।

নায়িকা নিয়তিরি যখন জ্যাককে বিপদ থেকে বাঁচায়, জ্যাক বলে, হোয়াই ইউ সেভড মি?

নায়িকা নিয়তিরি বলে, তোমার শিশুর মতো সুন্দর হৃদয় আছে, তুমি শিশুর মতো বোকা।

নায়ক জ্যাক তখন বলে, আমি শিশুর মতো বোকা হলে তুমি আমাকে শেখাও, ইউ সুড টিচ মি।

নায়িকা নিয়তিরি বলে, স্কাই পিপল ক্যান নট লার্ন, ইউ ডু নট সি।

নায়ক জ্যাক আবার বলে, দ্যান টিচ্ মি হাউ টু সি।

নায়িকা নিয়তিরি বলে, নো ওয়ান ক্যান টিচ্ ইউ টু সি।

শেষে নায়ক জ্যাক বলে, আই সি ইউ।

শেষে মেয়েটি বলে,আই সি ইউ। আমি তোমাকে দেখি।

কবে কোন কালে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ বলবে, আমি তোমাকে দেখি। আমি সাঁওতালদের দেখি। এই দেখা তো চোখের দেখা নয়, এক গভীর অন্তর্দৃষ্টি দরকার এখন।

তবে কিছু ইতিবাচক কাজও হচ্ছে দেশে। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে যা হয়েছে তা হলো, আদিবাসী ইস্যু নিয়ে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তর আলাপ আলোচনা হচ্ছে। দেশে নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হয়েছে, মিডিয়া আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চকণ্ঠ আদিবাসী বিষয়ে। এখানে অনেকে আদিবাসীদের উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বেশ উচ্চ কন্ঠ আদিবাসী অধিকার নিয়ে। সংসদীয় কমিটি কাজ করছে। দেশে এনজিওদের মধ্যে বেশ উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষানীতিতে আদিবাসী বিষয় যুক্ত হয়েছে। নারী উন্নয়ন নীতি, ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ইত্যাদিতে আদিবাসী ইস্যু অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ ধরনের কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলা যায়।

আদিবাসী মানুষের অধিকার উপলব্ধি করা, হৃদয়ে ধারণ করা, সম্মান করা এবং বুকের গভীরে অনুভব করা, আদিবাসী অধিকার একটু বুঝতে চেষ্টা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আদিবাসী অধিকার বোঝা বা উপলব্ধি করা বিরাট ব্যাপার। এখানে আদিবাসীদের ওয়ার্ল্ডভিউ সম্পর্কে কিছু বলতে হয়। তা না হলে আদিবাসী মানুষের মানবাধিকার সম্পর্কে জানা যাবে না। জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক অনেক অধিবেশনে নিউইয়র্কে ও জেনেভায় অংশগ্রহণের সুযোগ আমার হয়েছে। আমি দেখেছি, এই সব অধিবেশনে বিশ্বের আদিবাসীরা তাদের অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, মানবাধিকার, দুঃখ-কষ্ট-বঞ্চনার পাশাপাশি তাদের সংস্কৃতির ভিন্নতা, সৌন্দর্য ও শক্তির কথা বলে। পৃথিবীর ৭০টি দেশের প্রায় ৩৭ কোটি আদিবাসী জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘকে আদিবাসীরা বলেছে, আমরা আছি বলেই পৃথিবী এত সুন্দর, এত বর্ণময়। তারা বলে, এ পৃথিবীকে কত কিছু দিয়েছে আদিবাসীরা। সাগর, নদী, পাহাড়, পর্বত, বন, প্রকৃতি, ফুল, পাখি, প্রকৃতিকে তারা লালন করেছে আজকের শিশুর জন্য। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে শ্রদ্ধা করবার সংস্কৃতি আছে আদিবাসী সমাজে, যা অন্য সমাজে বিরল। কত সমৃদ্ধ ও উন্নত আদিবাসী সংস্কৃতি। ওরা বলেছে, নাচ, গান, গল্প বলা, ছবি আঁকা, অভিনয়, রঙ্গ করা কোনোকিছুই জীবনের বাইরে নয়, সবই জীবনের অংশ। অস্ট্রেলিয়ান এক মা গভীর আবেগে গান গাইতে গাইতে বলেছেন, ইউরোপীয়রা আসার আগে আমাদের ভূমিতে আমরা শুধু ছিলাম, তখন কত আনন্দ ছিল। ক্যাঙারুদের সাথে ভালোবাসা মাখামাখি জীবন ছিল আমাদের। তাই ক্যাঙারুদের নৃত্য আমরা জানি। তারপর তিনি তার দুই মেয়েকে নিয়ে ক্যাঙারু নৃত্য পরিবেশন করেছেন। মঞ্চের পিছনে তাদের বাবা নাচের সঙ্গে গান গেয়েছেন।

আজ বিশ্বের ৩৭ কোটি আদিবাসী আধুনিক রাষ্ট্রসমূহের বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক আচরণের শিকার। আধুনিক রাষ্ট্র এ যাবত বহুজাতিক কোম্পানি, পুঁজিপতি ও শক্তিমানদের পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচর্যা করে এসেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আদিবাসীরা তাদের নিজস্ব জগত, বসতভূমি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অধিকার হারিয়েছে। যে পাহাড় ও বনকে তারা স্বতঃসিদ্ধ বলে তাদের ঐতিহ্যগত অধিকার হিসেবে দেখতো, আধুনিক রাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কোনরূপ আলোচনা না করে, সেখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেছে।

মহাশ্বেতা দেবী তার টেরোড্যাকটিল, পূরণ সহায় ও পিরথা উপন্যাসে আদিবাসীদের কথা এভাবে লিখেছেন, “শোষণ” শব্দ তো হো ভাষায় নেই। যাদের জীবনে শুধুই শোষণ, শুধু বঞ্চনা, সেই আদিবাসীদের কোনো ভাষাতেই কি আছে “শোষণ” শব্দের সমার্থক শব্দ? এক সময়ে বন ছিল, পাহাড় ছিল, নদী ছিল, আমরা ছিলাম। আমাদের গ্রাম ছিল, ঘর ছিল, জমি ছিল, আমরা ছিলাম। এ কথাগুলোর মধ্যে আদিবাসীদের আনন্দ-বেদনা-স্বপ্ন ও এগিয়ে যাওয়া জড়িয়ে আছে। ওদের মনকে, ওদের মনস্তত্ত্বকে, জীবন ভাবনার বিশ্বজনীনতাকে বুঝতে হবে। বুঝতে হবে ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে, গায়ের জোরে, শক্তির দাপটে নয়। ওদের জীবনে বহিরাগতরা প্রবল রাষ্ট্রীয় শক্তি নিয়ে ঢুকে গেছে আর সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের মতো চলে গেছে সব জমি, বন, পাহাড়, প্রাকৃতিক সম্পদ। ওরা এখন অধিকারহীন অসহায় মানুষ। সংবেদনশীল, বিনম্র, প্রচন্ড ভালোবাসা ছাড়া আদিবাসীদের উন্নয়ন এখন আর সম্ভব নয়। রাজনীতি, সমাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি – সবখানে এ ভালোবাসার প্রতিফলন দরকার। দরকার সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ এ চরম অসহায়ত্ব, দারিদ্র্য ও প্রান্তিক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য। আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সবকিছুর জন্য দরকার আদিবাসীদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ আলাপ আলোচনা ও সংলাপ। আদিবাসীদের আস্থায় এনে এ কাজটি করতে হবে। আদিবাসীদেরকেও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ভেরিয়ার এলুইন তার আদিবাসী জগত বইয়ে লিখেছেন, ‘পাহাড় ও সমতলের ঐক্য জাতীয় স্বার্থেও যেমন প্রয়োজন, তেমন প্রয়োজন পাহাড় ও অরণ্যের মানুষদের স্বার্থে। আমরা পরস্পর পরস্পরকে সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় করতে পারি। আদিবাসীদের আমরা অনেক কিছু দিতে পারি, আবার ওদেরও অনেক কিছু আছে, যা আমাদের দেবার মতো।’

তাই আশা করি, একদিন আমাদের রাষ্ট্র অনেক বেশি গণতান্ত্রিক ও মানবিক হবে। দেশে জাতীয় আদিবাসী কমিশন গঠিত হবে। দেশে একটি আদিবাসী নীতি থাকবে। সে নীতির মূল কথা হবে, আদিবাসী স্পর্শ বা ইনডিজিনাস টাচ, অসীম নম্ররতা, শুদ্ধতা, হৃদয়ের বিশালতা ও সংবেদনশীলতা নিয়ে লেখা হবে সে আদিবাসী নীতিমালার বাক্যগুলো। আমাদের সবাইকে মিলেমিশে রাষ্ট্রকে তার সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। আদিবাসী-বাঙালি সবার মধ্যে যোগাযোগের সংবাহন বিন্দু গড়ে তুলতে হবে। সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই, কথাগুলো সত্যি হবে। পাহাড়ি শিশুর হাত ধরে পরম আনন্দে পথ চলবে বাঙালি শিশু। এখানে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-সুরমার সঙ্গে শংখ-মাইনী-মেননেং-সীমসাং নদীকে মেলাবার কাজ শুরু হবে, জীবনে জীবন যোগ হবে। আশায় বুক বাঁধতে চাই, গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালরা আবার পূর্বপুরুষের জমি ফিরে পাবে। তারা বসতবাটিতে ফিরে নতুন এক জীবন শুরু করতে পারবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত বাংলাদেশে আদিবাসী-বাঙালি মিলে মিশে মুক্তির গান গাইবে।

সঞ্জীব দ্রং : লেখক

Views All Time
Views All Time
181
Views Today
Views Today
1
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top