ঢাকা ,  শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,  ৭ আশ্বিন ১৪২৪

উপ সম্পাদকীয়

মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খার বাংলাদেশ : প্রেক্ষিত রামু, নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জ (৬)

স্বাধীনতাত্তোর মুক্তিযুদ্ধ আরও কঠিন

 

_mg_7565একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ছয়জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দলকে তাদের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে দেশের এক গ্রামীণ জনপদে পাঠানো হয়েছিল অভিযান চালাতে। পাঠাবার সময় ঐ ক্যাম্পেরই এক সহযোদ্ধা ঠিকানা দিয়ে বলেছিল যদি কোন কারণে দিনে দিনে অভিযান শেষ না হয়, যদি রাতে কোথাও আশ্রয় নেবার প্রয়োজন হয় তাহলে যেন ঐ অভিযান এলাকার কাছেই তাদের বাড়ি চলে যায়। বাড়ি গিয়ে তার মাকে পরিচয় দিয়ে বললেই রাতে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেবে তাদের বাসায়। তাই ঘটলো।

ছয়জনের মুক্তিযোদ্ধা দলটিকে রাতে থাকার জন্য আশ্রয় চাইতে হল সহযোদ্ধার গ্রামের বাড়িতে। সহযোদ্ধার মা খুব যত্ন করে তাঁদের জন্য রাতে থাকার আয়োজন করে দিয়েছিলেন বাড়িতে। নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ৬ মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু কেউ জানতো না এর আড়ালের ঘটনা, ছয় মুক্তিযোদ্ধা বুঝতে পারেনি আসলে কী অপেক্ষা করছিল তাদের ভাগ্যে।

তাদের ঐ সহযোদ্ধার বাবা গোপনে তাদের এলাকার পাকিস্তানি দখলদার সেনাদের খবর দিয়েছিলেন যে তার বাড়িতে রাতে মুক্তিযোদ্ধারা থাকছে। পাকিস্তানি বর্বর সেনারা এসে রাতে ঘুমন্ত ৬ মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করে চলে যায়। ঐ ৬ মুক্তিযোদ্ধা আর ফিরে যেতে পারেনি তাদের ক্যাম্পে। তবে ঘটনার খবর পৌঁছেছিল সেখানে।

তারপর মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে ঘটনাটি পর্যালোচনা করে ঐ সহযোদ্ধার বাবার জন্য মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়। এমন সিদ্ধান্তের পর, ঐ সহযোদ্ধা ক্যাম্প থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যায় বাবা-মায়ের কাছে। বাড়ি পৌঁছানোর পর যখন মা-বাবার সাথে তার দেখা হয় তখন গায়ের ওপর জড়ানো চাদরের ভেতর লুকিয়ে রাখা অস্ত্র বের করে মায়ের সামনে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে তার বাবাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করে।

এই ঘটনাটি একাত্তরে কোথায় ঘটেছে, কাদের জীবনে ঘটেছে তার বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুযোগ এখনো হয়ে উঠেনি। বৈশাখী টেলিভিশনে এই বিজয়ের মাস ডিসেম্বর উপলক্ষে সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের ওপর কয়েকটি প্রতিবেদন সম্পাদনার কাজ করতে গিয়ে দেখলাম সাংস্কৃতিক কর্মীদলের মুক্তিযোদ্ধাদের একজন তার একাত্তরের নানা স্মৃতি থেকে ঘটানাটি বর্ণনা করলেন। এই ঘটনা শুনবার সাথে সাথে আমার মনে পড়ে গেল মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি ঘটনা। যেটা আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার মুখ থেকে সরাসরি শুনেছি একাধিক আড্ডায়।

ঘটনাটি এরকম- সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শেষ। তাদের মুক্তিযোদ্ধা দলটি নিজেদের গ্রামে ফিরে এসেছে। আসার পর যুদ্ধের সময়ের নানা ঘটনা জানছে। সেগুলো জেনে সিদ্ধান্ত নিলো যারা পাকিস্তানি ঘাতক সেনাবাহিনীর দালাল, রাজাকার, সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে তাদেরকে আটক করবে তারা। তবে নিজের হাতে কোন ব্যবস্থা নেবেনা রাজাকারদের বিরুদ্ধে, আটক করে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেবে।

সেই অনুযায়ী তালিকা করে গোপনে নির্ধারণ করলো কোন কোন পাকিস্তানি দালাল-রাজাকারদের আটক করবে তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী একজন শীর্ষস্থানীয় পাকিস্তানি দালাল রাজাকারকে তার বাড়ি থেকে আটক করার জন্য দলনেতা এক মুক্তিযোদ্ধাকে দায়িত্ব দেন। ঐ মুক্তিযোদ্ধা দায়িত্ব নিয়ে চলে যায়। কিন্তু ঐ রাজাকারকে আটক করে আর ফিরে আসেনি। সহযোদ্ধারা কী ঘটেছে তা অনুসন্ধান করে।

জানতে পারে যে, তাদের দলের অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা ঐ রাজাকারের বাড়িতে যাবার পর ঐ বিত্তশালী চতুর রাজাকার এই অতি গরিব ঘরের সন্তান মুক্তিযোদ্ধার সাথে খুব ভাল ব্যবহার করে, তাকে আপ্যায়ন করে নিজের সন্তানের মত গণ্য করে, অনেক প্রশংসা করে। সেই রাজাকার তার সুন্দরী কন্যার সাথে ঐ মুক্তিযোদ্ধার বিয়েরও প্রস্তাব দেয়, সাথে বিপুল সম্পত্তি দেবার প্রলোভন দেয়। নয় মাসে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে ফিরে আসা মুক্তিযোদ্ধা দারুণ এক সুন্দর জীবনের হাতছানিতে মোহাবিষ্ট হয়। দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে, এখন তার নিজের কষ্টের জীবনটা সুন্দর করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। ঐ রাজাকারের প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক রাজি হয়ে যায়। ফলে সেই শত্রু রাজাকার বন্দি না হয়ে ঐ মুক্তিযোদ্ধার শ্বশুর বা আইনি বাবা হয়ে যায়। সেই মুক্তিযোদ্ধাই রক্ষাকবচ হয় তার রাজাকার শ্বশুর মশাইয়ের। দ্বান্দ্বিক এক পরিস্থিতির কারণে অন্য সহযোদ্ধারা আর আটক করতে পারেনি ঐ রাজাকারকে।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন খণ্ড খণ্ড বহু ঘটনার কথা শুনেছি নানা সময়, কখনও সেই সব ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের মুখে, কখনও প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের কাছ থেকে শোনা পরিচিত কারও কাছ থেকে। সে সব ঘটনার অনেকগুলোর মধ্যে যেমন গর্ব করার মত দারুণ মিল খুঁজে পাই, তেমনি খুঁজে পাই হৃদয় ভাঙার মত বৈপরিত্যও। এসব ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং যুদ্ধের পরের অনেক বাস্তবতাকে নানাভাবে বুঝবার জন্য সহায়ক হয়। যেমন স্বাধীনতার পর গত ৪৫ বছরে খুব অবাক হয়েছি বহু ঘটনা নিজের চোখের সামনে দেখে। ছোট মাথা বুঝত না- কী করে স্বাধীনতাবিরোধীরা সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, প্রশাসনিকভাবে, রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসিত হতে পারে? কী করে একজন মুক্তিযোদ্ধা বা একদা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যক্তি স্বাধীনতা বিরোধীদের দলে ভীড়ে যেতে পারে? কী করে রাতারাতি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে ফেলতে পারে? কী করে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থে আদর্শ, নীতি-মূল্যবোধকে বিসর্জন দিতে পারে? কী করে একজন মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ বলে দাবিদার কেউ সাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার হতে পারে? আবার কী করে একজন শত প্রতিকূলতার মধ্যেও পারে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শ ও মূল্যবোধের জায়গাগুলোকে আঁকড়ে ধরে থাকতে আমৃত্যু! মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এমন অনেক বিপরীতমুখী ঘটনা সমাজের জটিল, কঠিন দ্বন্দ্বের বাস্তবতাকে যেন সহজে বুঝতে সহায়তা করে।

বৃটিশ ও পাকিস্তানিদের দুঃশাসন ও শোষণের শিকার হবার পর একদম নিজেদের করে পাওয়া ছোট্ট বাংলাদেশ নিজেদের স্বপ্নের মত করে সাজানো হবে- এমন ভাবনা, প্রত্যাশা তো কল্পনার রাজ্যে বসবাস করা নয়। কিন্তু তা যে হল না আজ অব্দি। এজন্য দুঃখ বোধের চাইতে যেটা বেশি পীড়াদায়ক তা হল- আমরা নিজেরা শাসিত-শোষিত ও বঞ্চিত-নিপীড়িত হবার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের দেশে তা বন্ধ করতে লজ্জাজনকভাবে ব্যর্থ হয়েছি। ঐ যে আমাদের অনেকের লোভ- ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত, ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক- এমনি আরও অনেক ধরনের লোভতাড়িত হয়ে আমরা সেই একই চর্চা অব্যাহত রেখেছি বহু ক্ষেত্রে। অনেক কিছুতে আমরা দৃশ্যমান জীবনমানের উন্নতি করেছি বটে কিন্তু অদৃশ্য চিন্তা, মন-মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গির জায়গায় আমাদের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে যে আমাদের মানসিক দৈন্যতা হাহাকারের পর্যায়ে পৌঁছেছে তা সাম্প্রতিক ও বিগত বছরগুলোর কিছু ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

ধর্ম, বর্ণ, জাতি পরিচয়ের কারণে নিগৃহীত হবার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আমাদের রয়েছে সেই দীর্ঘ বৃটিশ আমল থেকে, তারপর পাকিস্তান আমলের ২৩ বছরও গেছে একই রকম। নিজেদের বাংলাদেশ পাবার পর গত ৪৫ বছরে নিজেরা সেই খারাপ মানসিকতাকে সমূলে উপড়ে না ফেলে বরং একই মানসিকতার চর্চা বলবৎ রেখেছি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে যে ছোট ছোট জাতি গোষ্ঠীগুলো রয়েছে তাঁদের প্রতি কী আচরণ করে আসছি আমরা ৪৫ বছরের স্বাধীন বাংলাদেশে? ওরা বাঙালি নয়, মুসলমানও নয়। সংখ্যায় ওরা কম। শিক্ষা, আর্থিক সক্ষমতা ও নানা সুযোগ সুবিধার বিচারে তারা অতি দুর্বল প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ। ফলে খুব সহজে তাদের ওপর আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও ভূ-সম্পদ বিষয়ক নির্যাতন চাপিয়ে দিতে পেরেছি, আজও পারছি। বাস্তবতা এমন রূপ নিয়েছে যে পাহাড়ে যেখানে বাঙালি এক সময় ছিল অতি নগণ্য সংখ্যক সেখানে এখন সেই সব ছোট ছোট জাতি গোষ্ঠীর  চাইতে বাঙ্গালির সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। নানা কৌশলে আমরা ওদের পাহাড় দখল করছি এমনভাবে যেন দূর ভবিষ্যতে তাঁদের এই ভূখণ্ডে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবার মত আশংকাও তৈরি হয়েছে। পাহাড়ের মানুষদের রক্ষার চাইতে তাদের কী নামে ডাকা সমীচীন হবে তা নিয়ে বরং আমাদের চিন্তাটা বেশি। একবার উপজাতি”, একবার তা বদলে আদিবাসী আবার তা বদলে এখন ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী নাম দেয়া হয়েছে।

পাহাড় ছাড়াও সমতলে আছে এমন ছোট ছোট জাতি গোষ্ঠী। তাদের প্রতিও আচরণ ও মানসিকতা একই রকম, কেননা তারাও দুর্বল। সম্প্রতি গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর যে নির্যাতন নেমে এসেছে এটা সেই দখলি শাসকদের মানসিকতারই আরেক রূপ। এই মানসিকতা কখনও সঙ্কুচিত করতে না পারলেও এটার চর্চা বরাবরই সীমাবদ্ধ ছিল দেশের হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীদের মধ্যে। ধর্ম, বর্ণ ও জাতি পরিচয়ের বিবেচনায় স্বাধীন বাংলাদেশে বরাবর নিপীড়নের প্রধান টার্গেট হিন্দুরা, যারা গেল নভেম্বর মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে প্রত্যক্ষ করেছে নতুন কৌশলে বড় হামলা, নির্যাতন।

এমন টার্গেটের তালিকা বিস্তৃত হয়েছে অনেক। এই তালিকায় একটু আগেই যেমন বললাম পাহাড়ে বা সমতলের অমুসলিম ছোট ছোট জাতি সম্প্রদায় ঢুকেছে অনেক আগে। নতুন তালিকাভুক্ত হয়েছে দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়, যাদের ওপর নাসির নগর স্টাইলে হামলার প্রথম নজির সৃষ্টি হয় ২০১২ সালে, কক্সবাজারের রামুতে। আরও নতুন তালিকাভুক্ত হয়েছে দেশি-বিদেশি খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা এবং খুঁজে পাওয়া দুষ্কর এমন এক ধর্মীয় সম্প্রদায়- বাহাই।

মুসলমানদের মধ্যে দেশে এমন টার্গেট ছিল আগে শুধু আহমদীয়া মুসলিম জামাত বা কাদিয়ানীরা। সেই তালিকায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে মুসলমানদের শিয়া সম্প্রদায়ও। অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবীরা পুরনো টার্গেট। নাস্তিক আখ্যা দিয়ে তরুণ লেখক, প্রকাশক ও অসাম্প্রদায়িক-ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র-সমাজের পক্ষের চিন্তার মানুষরা নতুন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সমকামীদের অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার ব্যক্তিরাও এই লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় নতুন সংযোজন।

অন্যদিকে এ ধরনের ঘটনায় হামলাকারীদের তালিকায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের অংশগ্রহণ নতুন সংযোজন। রামুতে বৌদ্ধদের ওপর হামলায় কিছু স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীর সম্পৃক্ততা অবাক করেছিল সবাইকে। কিন্তু গেল নভেম্বরে নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলার পুরো দায় আওয়ামী লীগের ওপরই পড়ে বলে গণমাধ্যমের খবর বলছে। অথচ এই আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক বাহক হিসেবে পরিচিত। সকল সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর রক্ষাকারী দল হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ। আগে এ ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলার পেছনে শুধু সাম্প্রদায়িক দল জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, ইসলামী ঐক্য জোট, কওমি মাদ্রাসায় উৎপাদিত ইসলামিক উগ্র নেতাকর্মীদের দেখা যেত। নতুন নামে তাদের নানা সংগঠন যেমন হরকাতুল জিহাদ, জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ, জাগ্রত মুসলিম জনতা, হেফাজতে ইসলামের মত নিষিদ্ধ এবং অনিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোকে দেখা যেত এসব হামলায়। এখন হামলাকারীদের দলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ দেখা যায়। দেখা যায় বিত্তশালী আধুনিক পরিবারের সদস্যদের হামলাকারী রূপে। বিদেশে বা দেশে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ালেখা করা, সরকারি এবং ব্যয়বহুল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এমনকি শিক্ষকরাও যুক্ত হচ্ছে এসব হামলা ও পরিকল্পনাকারী সংগঠনে। যাদের কারও পরিবার অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে এবং অনেকের পরিবার এসব উগ্র সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে।

কী করে ঘুণে খাওয়া সমাজ হয়ে উঠেছে আমাদের দেশ? যেখানে অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে বাঙালি মুক্তির জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে। একাত্তরের বহু আগে থেকে সেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তখন সেটা ছিল নিরস্ত্র। একাত্তরে তা হয়েছে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, নয় মাসের যেই যুদ্ধ বিজয়ে বাঙালী পেয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। ফলে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর বাংলাদেশ নিয়ে ধর্ম, বর্ণ ও জাতি ভিত্তিক নির্যাতন, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বর্ণনা দেবার অনাকাক্সিক্ষত বাস্তবতা তৈরি হওয়া উচিৎ ছিলনা। কিন্তু রূঢ় সত্য হল, তা হয়েছে। যা স্পষ্ট করে দেয়, মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক দর্শন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের বদলে আমরা কতটা পিছিয়ে পড়েছি।

মুক্তিযুদ্ধের পরের বাংলাদেশ আরও সহজ ও সুন্দর হওয়াটাই কাক্সিক্ষত, প্রত্যাশিত ছিল।  কিন্তু স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে মানুষের মুক্তির সংগ্রাম, মুক্তির যুদ্ধ যেন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে ক্রমেই।

জুলফিকার আলি মাণিক : সাংবাদিক

Views All Time
Views All Time
452
Views Today
Views Today
1
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top