উপ সম্পাদকীয়

মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খার বাংলাদেশ : প্রেক্ষিত রামু, নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জ (৭)

মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা : প্রেক্ষাপট রামু, নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জ

 

_mg_7857   এক

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিন আজ। পঁয়তাল্লিশ বছর আগে এই দিনে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের পদলেহী এদেশীয় দোসরেরা আনুষ্ঠানিকভাবে মিত্রবাহিনী যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে, যার ফলে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে- কিন্তু হত্যাকান্ড থেমে থাকে না। বাহাত্তর সালের জানুয়ারি মাসের শেষে ঢাকার বিহারী অধ্যুষিত মিরপুর এলাকায় শহীদ হন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার, ঔপন্যাসিক জহির রায়হানসহ আরো অনেক মহৎ প্রাণ। বিজয়ের চার বছর পূর্ণ হবার আগেই ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে সপরিবারে হত্যার শিকার হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর আড়াই মাস পরেই ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ঘাতকেরা হত্যা করে বাংলাদেশের প্রথম সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ জাতীয় চার নেতাকে। একাত্তরে ও পঁচাত্তরে যে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় তার উদ্দেশ্য ছিল অভিন্ন- মুখ্যতঃ মুক্তিকামী বাঙ্গালীর আরাধ্য বাংলাদেশের যেন আদৌ কোন অস্তিত্ব না থাকে, আর যদি থাকেও, তা যেন স্বমহিমায়, মুক্তিযুদ্ধ চেতনার দীপ্তি ছড়িয়ে সারা জাতিকে পুষ্ট করতে না পারে। কিন্তু ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ কি এমন ‘বস্তু’ বা ‘বিষয়’ যা সহ্য করতে পারে না ঘাতকের দল? কি ছিল মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা? কেনই বা আমাদের করতে হল মুক্তিযুদ্ধ? সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার  নাসিরনগর কিংবা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে যা ঘটে গেল কিংবা তিন বছর আগে কক্সবাজারের রামুতে যা ঘটেছিল সেই পটভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা মেলাতে গেলে পেছন ফিরে তাকাতে হবেই। বর্তমানের এই ঘটনা বুঝতে হলে ইতিহাসের পাতায় খুঁজে নিতে হবে এর শেকড়ের কথা।

 

   দুই

কে না জানে- কোন বায়বীয় আকাঙ্খা নিয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রেক্ষাপট তৈরী হয়নি। ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টির পর সাম্প্রদায়িক বাতাবরণ ক্রমঃপ্রসারিত হতে থাকে। শুধু ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা নয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকভাবে বাঙালী জনগোষ্ঠীকে কোণঠাসা করে রাখা, হীনবল করার নিরন্তর অপচেষ্টা জারি রেখেছিল পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকবর্গ যার বিরুদ্ধে অনির্দিষ্ট সময়-বিরতিতে রুখে দাঁড়িয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। তাই তেইশ বছরের পুঞ্জীভূত শোষণ-বঞ্চণার ভিত্তির উপর নির্মিত হয়েছে আমাদের মুক্তির আকাঙ্খা। সে আকাঙ্খা বাস্তবায়নের জন্য মুক্তিকামী মানুষ যখনই একজোট হয়েছে, তখনই আঘাত এসেছে।

১৯৭০এর সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের নিরংকুশ বিজয় অর্জিত হলে বাঙ্গালীর সকল বৈধ দাবী উপেক্ষা করে ‘সহজ সমাধান’ এর পথ বেছে নিয়েছিল পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী ও পশ্চিম পাকিস্তানের কায়েমী স্বার্থবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বাঙালী জনগোষ্ঠীকে চিরতরে নির্মূল করার অভিপ্রায়ে একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নাম দিয়ে মুক্তিকামী বাঙ্গালী হত্যা শুরু করলে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, যা শেষ হয় প্রায় নয় মাস পর ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে যেদিন পাকিস্তানী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। নয় মাসের এই মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরী হয়েছিল এক-দুই নয়, তেইশ বছর ধরে।

 

   তিন

যে সমাজে আমরা বাস করি তা আপাতঃ দৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও আদতে তা নয়- কেননা অনাকাঙ্ক্ষিত ধারাবাহিক নিষ্পেশন, নির্যাতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবার ফলে আমাদের সমাজ দীর্ঘ দিনের বিভিন্ন মাত্রিক ট্রম্যাটিক পর্যায় অতিক্রম করেছে, এবং এখনো করছে। তাই চলমান সময়ের নানা অভিঘাত ও দ্বন্দ্ব বুঝতে আমাদের চোখের সামনে বিশাল ক্যানভাস রাখা জরুরি। ২০০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতি বিনষ্ট করায় ভূমিকা রেখেছে, ফলে ভারত-ভাগের আগেই হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা প্রবল আকার ধারণ করে। এই সমাজ পাকিস্তানী আমল জুড়ে সামরিক শাসন ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে দগ্ধ হয়েছে। একাত্তরের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ সামগ্রিকভাবে যে আঘাত হানে তাতে স্বাভাবিক কারণেই জাতির মানসিক ভারসাম্য আক্রান্ত হয়, যা উপশমের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ ছিল না যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে। এতে স্বজন হারানো, কিংবা স্বজন না-হারানো মুক্তি-প্রত্যাশী পরিবারগুলো মুক্তিযুদ্ধের সময় ভয়ংকর যে সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, তা তাদের মনোজগতে নিরাময়ের অযোগ্য ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এই ক্ষত আরো দগদগে হয়েছে যখন স্বাধীন বাংলাদেশে হত্যা ও ক্যু-এর রাজনীতি, সংবিধানে অযাচিত নগ্ন হস্তক্ষেপ, মুক্তিযুদ্ধের কাছাকাছি মানুষদের হত্যা, গণ মাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়-এর পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন, যথেচ্ছাচার ইতিহাস বিকৃতি, সর্বক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী নরাধমদের প্রতিষ্ঠা ইত্যাদির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর সামগ্রিক অর্থে রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন হয় যা ষাটের দশকের রাজনীতির সাথে তুলনা করলে ভয়ানকভাবে নেতিবাচক। পরগাছা রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকশিত হওয়ার জন্য বংগবন্ধুহীন বাংলাদেশের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সহায়ক। জিয়াউর রহমানের দুই ‘বিখ্যাত’ উক্তি- ‘money is no problem’ এবং ‘I will make politics difficult’ নিছক মুখের বচনই ছিলো না, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কলুষিত করতে তিনি এই দুই উক্তির বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন এদেশে। সিষ্টেমেটিক কায়দায় তরুণ মনকে বিভ্রান্ত করার নানা উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন। শুধু শহর পর্যায়ে নয়, গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তার এই অপচেষ্টা। এতে ক্রমশই দেশপ্রেমবোধ বিবর্জিত pseudo -জাতীয়তাবাদী ভাবনার উন্মেষ ঘটে যা সামরিক শাসনের ছায়াতলে ক্রমেই ফুলে-ফলে পল্লবিত হয়ে ওঠে। এই নব্য জাতীয়তাবাদী শক্তি মুক্তিযুদ্ধের নির্ধারিত সকল সত্যকে পাশ কাটিয়ে অথবা কখনো অস্বীকার করে ‘জিয়াউর রহমান’-সেন্ট্রিক সমান্তরাল আরেক রাজনৈতিক ইতিহাস তৈরি করে, যার পতাকাতলে ক্রমশই স্বাধীনতা বিরোধী এলিমেন্ট এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী মানুষেরা জড়ো হতে থাকে। এই ভাবধারায় তরুণ প্রজন্মকে দীক্ষিত করে তুলতে প্রশাসনিকভাবে নানা উদ্যোগ নেয়ার ফলে তরুণদের এক বিরাট অংশ ক্রমান্বয়ে জিয়া-পন্থী রাজনৈতিক লাইন বেছে নেয়। সময়ান্তে, রাজনীতি ও গণমাধ্যমে ব্যবসায়ী শ্রেণীর প্রাধান্যের কারণে ক্রমশই কোণঠাসা হয়েছে আদর্শবাদী, নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিকেরা। এর সাথে স্বৈরাচার এরশাদের নানা উদ্যোগ আরো কলুষিত করে এদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

অন্যদিকে বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে সাথে আমাদের দেশের বাম ধারার রাজনীতিও বেশী দূর এগুতে পারেনি, বরং মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে প্রগতিশীল রাজনীতির যে স্বপ্ন দেখার কথা ছিল উঠতি বয়সের তরুণদের, তাদের এক অতি নগন্য অংশই বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছে। বরং পরগাছা রাজনৈতিক আবহে অতি-ডান পন্থী এলিমেন্টরা তাদের শেকড় আমাদের পবিত্র মাটির অনেক গভীরে প্রোথিত করার সুযোগ পেয়েছে – যার লেটেষ্ট রূপ প্রকাশিত হচ্ছে জঙ্গিপনার মধ্য দিয়ে।

সর্বোপরি, বাংলাদেশে বিভাজিত শিক্ষা ব্যবস্থা থাকায় ভিন্ন ভিন্ন ভাবধারা নিয়ে শিশুরা বড় হয়ে ওঠে। ফলে, দেশ, সমাজ, মানুষ, দেশের ইতিহাস ইত্যকার সব বিষয়ে ভাবনার দিক থেকে অনেক বৈপরীত্য থাকে। আজকের বাংলাদেশে আমরা একই সাথে আশান্বিত হবার মত অসংখ্য নজীর যেমন দেখতে পাচ্ছি- আবার আশাহত, আশংকিত হবার মত নজীরেরও কমতি নেই। তাই একই সমাজে আমরা যখন দেখি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একাত্তরে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকারীদের চিহ্নিত এক অংশের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের আওতায় বিচার হতে, শাস্তি পেতে – আবার প্রায় একই সময়ে দেখতে পাই ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নৃ-জাতিগোষ্ঠী’র ওপর চড়াও হওয়া কিংবা তাদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার মতো ঘটনা ঘটতে যার পশ্চাতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা কুশীলবদের সংশ্লিষ্টতা মেলে। বিজয় লাভের পর দেশ দীর্ঘ এক কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দেবার ফলে আমরা আজ বাস করছি এক অদ্ভূত মিশ্র সমাজের মধ্যে যেখানে একই সাথে রক্ষণশীল সমাজ ও মুক্ত সমাজের অস্তিত্ব রয়েছে। এবং রক্ষণশীল সমাজে যেমন, তেমনি প্রগতিশীল/মুক্ত সমাজের মানুষের আচরণে রয়েছে স্ববিরোধীতা। এই স্ববিরোধীতার ছায়া যেন সমাজের সর্বত্র – কি প্রশাসন, কি রাজনীতি, কি সাংস্কৃতিক কর্মকা– কোথায় নয়? এতে কর্মে-চলনে-বলনে সাম্প্রদায়িক আচরণ প্রকাশিত হচ্ছে। আশংকার বিষয় যে, রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক চর্চা বাড়ছে। ধর্ম-নিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলের পরিচয় নিয়ে মেয়র নির্বাচন করবেন যিনি তাকেও দেখছি তার নির্বাচনী প্রতীকে আরবী হরফে ‘আল্লাহু’ ‘মুহাম্মাদ’ ইত্যাদি লিখে ভোট পাবার জন্য এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে। আর চিহ্নিত জামায়াতী – সাম্প্রদায়িক নেতা-কর্মীদের আশ্রয় দেয়ার খবর তো অহরহই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ফলে সমাজে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খার সাথে সাংঘর্ষিক অনেক ঘটনাই ঘটে চলেছে, এবং চলবে যদি এখনি রাশ টানা না হয়।

টানেলের অপর প্রান্তে নিশ্চয় আলোর হাতছানি রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের আকাংক্ষার আলোকে এদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মন, মনন গঠন করা সম্ভব হলেই আগামী দিনের সমাজে এই সব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অবসান ঘটবে। এখন এত কিছু ঘটছে- কারন ‘বিসমিল্লায় গলদ’ রয়েছে। রাজনীতির নানাবিধ ব্যাকরণে আমরা বিস্মৃত হয়েছি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবোধ, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের আকাংক্ষার স্বরূপ। আমাদের আবার মনে করতে পারতে হবে যে, মুক্তিযুদ্ধ চেতনা এমন এক মানবিক অনুভূতি যা মানুষকে একজোট করতে পারে। ভুলিয়ে দিতে পারে অন্তরের সকল অহংবোধ, যার প্রাণবান উপস্থিতিতে মানুষ মুক্ত হতে পারে সকল সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে। এই চেতনাবোধ মানুষকে শাণিত করে সকল অন্যায়, নির্যাতন, শোষণ, বঞ্চণার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, জীবনের সকল মায়া ত্যাগ করে পরের কল্যাণার্থে নিজেকে সমর্পণ করতে। এই চেতনাবোধে তাড়িত হলে মানুষ ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-নিরক্ষর, গ্রামীন-শহুরে – সব ব্যবধান ভুলে এক কাতারে এসে দাঁড়াতে পারে এবং একই অভীষ্ট লক্ষ্য সাধনের জন্য জীবন-পণ বাজী রেখে একাট্টা হয়। তার বাস্তব নজীর রয়েছে আমাদের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-লিঙ্গ-স্থান-শিক্ষাগত যোগ্যতা-আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে এক কাতারে দাঁড়িয়েছিল মুক্তিকামী মানুষ – আর তাই তো সম্ভব হয়েছিল দৈত্য-দানোদের পরাজিত করে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি নবজাত দেশের জন্ম দেয়া।

   চার

তবে ভুললে চলবে না – দীর্ঘ কাল গত হবার পর হন্তারকেরা নিজেদের অবস্থা ও অবস্থান যখন বেশ গুছিয়ে নিয়েছিল এই স্বাধীন দেশে, যখন তারা নিজেরা শুধু ক্ষমতায়িতই হয়নি, আমাদের ওপরেও ক্ষমতার ছড়ি ঘোরাচ্ছিল – তখন জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার ইস্পাত-দৃঢ় পদেক্ষেপের ফলে তাদের ‘তখতে তাউস’ এমন করে ভেঙ্গে পড়বে তা তারা ভাবেনি কখনোই। আন্তর্জাতিক আইন আদালতে একাত্তরের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকারীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া ও শাস্তি পাওয়ার ঘটনা বাস্তবায়িত হবার সময় থেকেই দেশে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। নানা ছলে দেশব্যাপী তারা তাদের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তাই রামু, নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জের ঘটনার মত আরো ঘটনা ঘটার ক্ষেত্র তৈরী হচ্ছে, হবে।

আজ যা ঘটতে দেখছি বাংলাদেশে তা এই অঞ্চলের বাস্তবচিত্র নয়। মূলত আবহমান কাল থেকেই এ এলাকার মানুষ মিলে মিশে বাস করার চেষ্টা করেছে। এবং পাশাপাশি এই মিলে-মিশে থাকার পরিবেশ বিষাক্ত করার কুশীলবরাও সক্রিয় ছিল সর্ব কালেই। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা ছিল এমন এক সমাজ বিনির্মাণ করা যেখানে সেইসব কুশীলবের ঠাঁই হবে না। তবেই তো মুক্তি আসবে!

 

তৌহীদ রেজা নূর : শিক্ষক, গবেষক, শহীদ সন্তান

Views All Time
Views All Time
298
Views Today
Views Today
1
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top