ঢাকা ,  রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,  ৯ আশ্বিন ১৪২৪

দেশ

লালমনিরহাটে নতুন করে ১৯ গ্রাম প্লাবিত, ভয়াবহ খাদ্য সংকট

অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী মানুষগুলোর মাঝে দেখা দিয়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকট।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, লক্ষাধিক বানভাসি মানুষের জন্য বরাদ্দ রয়েছে মাত্র দেড়’শ টন চাল। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য।

এদিকে সোমবার সকালে ডালিয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানান, তিস্তা নদীর কমে পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৫ সে. মি. ও ধরলা নদীর পানি কুলাঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য তিস্তা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। ধরলা ও তিস্তার পানি সার্বক্ষণিক মনিটারিং করা হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকতা।

এদিকে, সোমবার ভোর রাতে তিস্তা ও ধরলার প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬টি বাঁধ। এতে নতুন করে আরও ১৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্ধ রয়েছে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সারাদেশের সাথে দ্বিতীয় দিনের মতো রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পানিবন্দী হয়ে থাকা লক্ষাধিক পরিবারে অধিকাংশ মানুষ গরু, ছাগল ও হাস-মুরগি নিয়ে উঁচু রাস্তায় রাত্রীযাপন করছে। পানিবন্দী মানুষগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ খাদ্য সংকট। অনেকেই সারাদিনে এক বেলা খাবারও জোটাতে পারছে না। পরিবার পরিজন ও গরু ছাগল নিয়ে আজও মানুষ ছুটছে নিরাপদ স্থানে। আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন স্কুল, কলেজের বারান্দায় বাঁধে ও উঁচু স্থানে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠার কারণে বন্ধ রয়েছে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে লালমনিরহাট-বুড়িমারী সড়ক ও রেল যোগাযোগ। তিস্তা ও ধরলার প্রবল স্রোতে সোমবার ভোরে শতাধিক বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে।

বাসভাসি লোকজন অভিযোগ করে বলেছেন, গত ৫দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে থাকলেও তারা পাননি তেমন কোন সাহায্য-সহযোগিতা। অনাহারে ও অর্ধাহারে কাটছে তাদের দিন। সরকারিভাবে যে ত্রাণ ও শুকনা খাবার দেওয়া হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই নগন্য বলে জানিয়েছে তারা। উজানের ঢলে তিস্তা ও ধরলার ৬৩টি চর ও চরগ্রামের সব বাড়িতেই পানি বুক সমান। সেই সঙ্গে ভয়াবহ আকারে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।

”তিস্তা হামার জমি জিরাত সব শ্যাষ কইরা দিলে বাহে। সব কিছু ভাসায় নিয়া যায়ছে, বসতভিটা গিলা খায়া ফেলায়ছে। চরের সব রাস্তাঘাট বাইংগা নিয়া আমাগোরে পথে বসাইছে”, সোমবার সকালে কথাগুলো বলেন ডাউয়াবাড়ি চরের সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ জাবুর আলী(৭২)।

কুলাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বলেন, এর আগে ধরলার বন্যা ও ভাঙন দেখছিলাম। কিন্তু এবার ধরলা যেন পাগল হয়ে উঠেছে। সামনে ও আশপাশে যা পাচ্ছে সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে চলে যাচ্ছে। বানভাসি মানুষের আহাজারিতে ধরলার পাড় ভারি হয়ে উঠছে। কিন্তু সরকারের নিকট থেকে তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা না পাওয়া দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যাচ্ছে না বলে জানান এই ইউপি চেয়ারম্যান।

সদরের রাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন বলেন, তার ইউনিয়নের চরবেষ্টিত ১৭টি গ্রামের অবস্থা ভয়াবহ, গত ৫ দিনে অর্ধ-শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চরের সব রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে বন্যা দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে উঁচু বাঁধে। এই ইউপি চেয়ারম্যান আপেক্ষ করে বলেন, ৫ দিনে সরকারের বরাদ্দ মিলেছে ১’শ ৩০ কেজি চাল, কিন্তু দুর্গত মানুষের সংখ্যা ২৫ হাজারেরও বেশি। এই অবস্থায় তিনি চরম বেকায়দায় পড়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

সানিয়াজান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, বন্যাকবলিত ৬ হাজার মানুষের জন্য তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন মাত্র ৭৫ কেজি চাল ও কিছু শুকনা খাবার। যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই নগন্য।

অন্যদিকে গত ৫ দিন ধরে পানিবন্দী থাকা পরিবারগুলোর মাঝে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নানা পানিবাহিত রোগ। জেলা সির্ভিল সার্জন ডা. আমিরুজ্জামান বন্যা দুর্গত এলাকায় ৫৪টি মেডিকেল টিম কাজ করার কথা বলেও কোথাও কোন মেডিকেল টিমের কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

জেলা শিক্ষা অফিসার নবেজ উদ্দিন জানিয়েছেন, ভয়াবহ বন্যার কারনে জেলার ১৯৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ত্রাণ সংকটের সত্যতা স্বীকার করে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আরিফ জানিয়েছেন, সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ১’শ ৬০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা নিবার্হী অফিসাররা বিতরণ করবেন।

Views All Time
Views All Time
30
Views Today
Views Today
1
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top