অর্থনীতি

১৫ টাকা কেজিতে চাল পাবে স্বল্প আয়ের মানুষ

অস্থির চালের বাজার। বর্তমানে রাজধানীর খুচরাবাজারে ৫০ টাকা কেজির নীচে মোটা চাল নেই বললেই চলে। আর ভালোমানের নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে। এছাড়া বিআর-আটাশ ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়, মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন সব শ্রেণির ভোক্তারা। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছে।

এ অবস্থায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আগামীকাল রবিবার থেকে খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল ও আটা বিক্রি শুরু করবে সরকার। প্রতি কেজি চাল ১৫ টাকা ও আটা ১৭ টাকায় বিক্রি করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে তা চালু হবে।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, চাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। চালের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা হওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। সরকারের কাছে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। রবিবার থেকে সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে ওএমএস চালু হবে। যতদিন পর্যন্ত প্রয়োজন ওএমএস চালু থাকবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওএমএস-এর পাশাপাশি আগামী বুধবার থেকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও চালু হবে। এ কর্মসূচিতে চলতি সেপ্টেম্বর থেকে আগামী তিন মাস ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবার ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ কর্মসূচি চালু হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় চালের মজুত ও সরকারের সব গুদামে চালের সুষম বণ্টন না হওয়ায় এ কর্মসূচি শুরু করা যায়নি। জানা যায়, বর্তমানে সরকারের গুদামে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এসব চালের বেশির ভাগ চট্টগ্রাম ও খুলনাকেন্দ্রিক খাদ্যগুদামগুলোতে ছিল। কারণ, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করে তা চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে খালাস করে বন্দরকেন্দ্রিক গুদামগুলোতে রাখা হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এজন্য দেরিতে শুরু হচ্ছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি।

এদিকে আমদানি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি বাকিতে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিয়েও অস্থিরতা কমছে না চালের বাজারে। চালের বাজার অস্থিতিশীল করতে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন। সিন্ডিকেটটি ব্যবসায়ীদের মাঝে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে চালের অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বোরো মৌসুমে হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরোর উত্পাদন কম হওয়ার পর থেকেই চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ঈদ-উল আযহার আগে কিছুদিন বাজার স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের পর আবার চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। সব ধরনের চালে কেজি প্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চালের আমদানি বাড়াতে গত এক মাসে আমদানিতে শুল্কহার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু এর কোনো প্রভাব নেই চালের বাজারে।

-নিউজ ডেস্ক

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top