মতামত

১৬ কোটি মুক্তিযুদ্ধের মুখের বাংলাদেশ

মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়, দলটির নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশ-বিদেশের নানা বাধা, নানা চক্রান্ত উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করে চলেছেন একের পর এক; তখনও রামু, নাসিরনগর বা গোবিন্দগঞ্জের মত অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে। এসব ঘটনা যুগপৎ সরকার ও সরকারীদলকে বিব্রত করছে। এটা ভাবারও কোন কারণ নেই যে, এসব ঘটনার পেছনে সরকার বা দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কোন নেতার সায় আছে। প্রশ্ন হল, তাহলে এসব ঘটছে কেন?

আমারা জানি, আমাদের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। পাশাপাশি এ কথাও ভুলে গেলে চলবে না যে, এই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িকতার ইতিহাসও অনেক পুরনো। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পরাজয় হলেও, পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র ক্ষমতার মদদে দীর্ঘ সময় ধরে তারা তৃণমূল পর্যায়েও শক্তি সঞ্চয় করতে সমর্থ হয়। তাছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক যোগাযোগ তো রয়েছেই। ফলে মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে যখন যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামী কোনঠাসা হয়ে পড়েছে এবং চরম হঠকারী রাজনীতির দায় নিয়ে বিএনপিও প্রায় নিস্ক্রিয়; তখন সারাদেশেই তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগে বিএনপি বা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের অনুপ্রবেশ ঘটছে। এই অনুপ্রবেশকারী চক্রটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। রামু, নাসিরনগর বা গোবিন্দগঞ্জের মত ঘটনাগুলো এসবেরই প্রতিফলন।

পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, অর্থনীতির প্রায় সবগুলো সূচক যখন ইতিবাচক, দেশ যখন সামনের দিকেই এগিয়ে চলেছে ; তখনও দেশেকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র দেশী-বিদেশী কুচক্রী মহলে বিদ্যমান। আর তাই সমস্যাটা মোটেই খুব সাধারণ নয়, বরং এর শেকড় অনেক গভীরে।

বস্তুত: এক্ষেত্রে শর্টকার্ট কোন পথ নেই। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী লড়াই। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িকতার যে বীজ সমাজের গভীরে প্রোথিত, তাকে মূলোৎপাটনের জন্য লাগাতার লড়াই করে যেতে হবে। রাজধানী বা নগরে বসে নয়। এ লড়াই চালাতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভেতরে নিরন্তর সাংস্কৃতিক লড়াই পরিচালনা করা ছাড়া এক্ষেত্রে মুক্তি অর্জনের পথ নেই।

জীবন থেকে নেয়া একটি প্রচারণামূলক কর্মসূচীর মাধ্যমে এই লড়াইয়ে শামিল হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচীর নাম ‘মুক্তিযুদ্ধের মুখ’। বিভিন্ন পেশার মোট বারো জন তরুন, তরুনী এ বছর মুক্তিযুদ্ধের মুখ নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা আগামী এক বছর অন্তত: বৃহত্তর জেলা শহরগুলোতে যাবেন। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মতবিনিময় করবেন তরুনদের সঙ্গে। কথা বলবেন সুধী সমাবেশেও। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খার বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াইয়ে শামিল হওয়ার জন্য তরুন সম্প্রদায়ের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি করবেন।
আমরা চাই, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষই হবেন এক-একজন মুক্তিযুদ্ধের মুখ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

সম্পাদক:

বিপুল রায়হান

১৩/২ তাজমহল রোড, ব্লক-সি, মোহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭, ফোন : 01794725018, 01847000444 ই-মেইল : info@jibonthekenea.com অথবা submissions@jibonthekenea.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত জীবন থেকে নেয়া ২০১৬ | © Copyright Jibon Theke Nea 2016

To Top
Left Menu Icon
Right Menu Icon